Sunday, March 5, 2017

বিয়ে নিয়ে


দিনের বেলা দিদাকে যে মাসি দেখাশোনা করেন, তাঁর মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ এসেছে| মেয়েও কোনো বাড়িতে সারাদিন থাকার কাজ করেন, সেখানে যিনি রান্না করেন, তিনিই মেয়ের ঠাণ্ডা স্বভাব কম কথা ইত্যাদি দেখে মেয়েকে তাঁর পুত্রবধূ করতে চেয়েছেন| ছেলে প্রাইভেট গাড়ি চালায়, সিগারেট ছাড়া নাকি কোনো নেশা নেই| আজ বিকেলে তাঁদের কথাবার্তা বলতে আসার কথা, মাসি এসব বলছিলেন, আমি ঘুম ভেঙ্গে উঠে অতি বিস্বাদ চায়ের কাপ হাতে আর মা ক্লাস নিয়ে ফিরে খাবারের থালা হাতে শোনা হচ্ছিল| যে মাসি ঘর পরিষ্কার করেন,  তিনিও বসে দু-চারটে টিপ্পনী কাটছিলেন|
সর্ববাদিসম্মত সিদ্ধান্ত হল, ছেলে সম্পর্কে ভালো করে খোঁজখবর নেওয়া দরকার, বিশেষতঃ যখন সম্বন্ধটা যেচে এসেছে| বিয়ের ব্যাপারে পাত্রপক্ষের অতিরিক্ত আগ্রহ এবং তাড়াহুড়ো, দুটোই সমান সন্দেহজনক, আমাদের চেনাজানার মধ্যে তার উদাহরণ আছে| আমি আরও বলতে যাচ্ছিলাম মেয়েকে চাকরি ছাড়তে যেন বাধ্য না করা হয়, তার আগেই মা জিগ্যেস করলেন, ‘তোমার মেয়ে কি বলে?’
‘মেয়ের তো ন’ভাগ না, আর এক ভাগ হ্যা| বলে আমি চাকরি করে খাচ্ছি, বিয়ের আর কি দরকার?’ এক নিশ্বাসে বলে মাসি হাঁফ ছাড়েন| এ ব্যাপারে মেয়ের সঙ্গে বেশ ভালোমতো দড়ি টানাটানি হয়ে গেছে, অনুমান করা যায়|
বিয়ে করার চেয়ে চাকরি করাটা মেয়েদের যে সত্যিই বেশি দরকারি, এই কথাটা আমিও বলতে যাব, এমন সময়ে মা বলে উঠলেন, ‘তা চাকরি করে তো করে, বিয়ে করতে হবে না? বিয়েটা সকলের জীবনেই খু, খু-উব দরকারি|’
মায়ের এই ব্যাপারটা আমি সত্যিই বুঝতে পারি না| আমার মা, ঋজু, শক্ত, পেশাগতভাবে চূড়ান্ত সফল মা, সংসার নিয়ে নাজেহাল হয়ে যাওয়া মা তবু কেন যে বিয়ে করার পক্ষেই বরাবর সওয়াল করেন, এটা আমার মাথায় ঢোকে না| ‘বিয়ে করে কি চতুর্বর্গ লাভটা হয়, এই নিয়ে তক্কো করতে যাব, মা তাঁর আগের কথাটার খেই ধরেন, ‘একটা সঙ্গী লাগে না মানুষের? আপদেবিপদে শরীর খারাপে আহা-ষাট বলারও তো লোক একটা চাই, না কি?’
এই কথাটার প্রতিবাদ না করে থাকতে পারি না, আমার বিপ্লবী সত্তা ঘুম ভেঙ্গে একেবারে গা ঝেড়ে উঠে বসে| সংসারসমরাঙ্গনে মায়ের লড়াইয়ের বেশির ভাগটাই যে একার, একেবারে একার চেষ্টায় লড়া, সেটা আমার চেয়ে ভালো কেউ জানে না বলেই বোধ হয় আমি মুখ বেঁকিয়ে বলে ফেলি, ‘আ-হা, ক-ত একেবারে আহা-ষাট করে উল্টে দিচ্ছে লোকে! আহা-ষাট করার জন্যে বিয়ে করতে হবে?’
মাকে তর্কে হারাব আমি? ন্যায়্দর্শনের ডাকসাইটে প্রোফেসরকে? মায়ের ঠোঁটে এবার একটা মিচকে হাসি খেলে যায় – ‘ তা ঝগড়া করার জন্যেও তো একটা লোক দরকার, না কি?’
এবার চুপ করে যাই| এই লজিকটা আমার বেশ, বে-শ পছন্দ হয়ে যায়| আফটার অল, ওই ‘ইউ ক্যানট ব্লেম গড এন্ড মোদী ফর এভরিথিং’ গোছের মিমগুলোও এরকমই কিছু বলে, তাই না?

1 comment:

  1. এইটা একদম সুপার কেলেঙ্কারি টাইপ লেখা হয়েছে। ফেবুর মত করে লাইক দিলাম।

    ReplyDelete