Monday, March 6, 2017

চক্রবত

(ফেসবুক হইতে পুনঃপোষ্টিত - পুরনো লেখা)

- কিরে, ঘরে ভূতের মত বসে আছিস, জেঠিমা কই?
- মা নীচের ঘরে| শুয়েছে বোধ হয়| বোসো|
- না, আমি যাই বুঝলি| কিসব কেনাকাটি করতে বেরোতে হবে বিকেলে, মা বলছিল|   শক্তির বইটা দিয়ে যাচ্ছি| 
- রুমুদি, তুমি চলে যাবে?
- আবার! আমার গীতবিতান ফেরত দিবি বলে দিলাম|
- সত্যি চলে যাবে, রুমুদি?
- যা গিয়ে অনির সঙ্গে ঝগড়া কর গে| কেন নিয়ে যাচ্ছে আমায়| খ্যাপা কোথাকার!
- রুমুদি প্লিজ! আমি মরে যাব| 
- পাগলামি করিস না পাবলো| ছাড়|
- রুমুদি –
- পাবলো! আমার লাগছে|
- রুমুদি, প্লিজ চলে যেও না| আমায় ছেড়ে যেও না, রুমুদি|
রুমির বুকের খাঁজে হালকা চন্দনের গন্ধ| পাবলো পাগলের মত মুখ ঘষতে লাগল|
********************************************************************************
‘রুমুদি, আমায় ছেড়ে যেও না, প্লিজ’ – প্রবাল পাগলের মত মুখ ঘষছিল| দরজায় দাঁড়িয়ে একদৃষ্টে সেদিকে তাকিয়ে ছিলেন ডক্টর অনিরুদ্ধ চৌধুরী| রোজই থাকেন| রম্যানি নেই আজ প্রায় ছ-সাত বছর হতে চলল| মনে করলেই বুকের ভেতরটা চিনচিন করে| এখনও| সেই শীতের সন্ধ্যেয়, রুমি যখন পাগলের মত ছুটে এসেছিল তাঁর কাছে, তখন কি করা উচিত ছিল তাঁর? একটু সহানুভূতি, একটু বিশ্বাস, আর অনেকটা ভালোবাসা দিয়ে ঢেকে দেওয়া যেত না, সব? সেদিন যদি তিনি অতটা অবুঝ না হতেন - 

চোয়াল শক্ত হয়ে গেল ডক্টর চৌধুরীর| রম্যানির তালগোল পাকানো দেহটা চোখের সামনে ভেসে উঠল, আবার| প্রায়শ্চিত্ত তাঁকে করতেই হবে| প্রবাল যতদিন বাঁচবে, ততদিন ও এখানেই থাকবে| এই ওয়ার্ডেই| থাকতেই হবে ওকে, তাঁর চোখের সামনে, ওই গোবদা টেডিবেয়ারটা জাপটে ধরে| 

No comments:

Post a Comment