Friday, February 24, 2017

ঘরে ফেরার গান

(এই পোস্টটা অনেক অ-নেক দিন আগে হওয়ার কথা ছিল| কিন্তু (অ) কাজের চাপ, ল্যাদের প্রবল প্রভাব, বিলেতফেরত বন্ধুর সঙ্গে অনর্গল আড্ডা, বিয়েবাড়ি, সর্দিজ্বর প্রভৃতির ধাক্কা সামলে লিখতে লিখতে বেলা গেল| আপাততঃ কাজ নেই বা করতে ইচ্ছে করছে না, মাথা ধরেছে, ঠাণ্ডায় ল্যাব ছেড়ে বেরোতেও গড়িমসি, তাই ভাবলাম এখন লিখে ফেলা যাক|
মনে রাখতে হবে, এই লেখায় 'আজ' মানে ১৩ই জানুয়ারী, ২০১৭)
আজ আই আই টি খড়গপুরের পুনর্মিলন উত্সব - যাকে পোশাকি ভাষায় বলে এন্যুয়াল এলামনি মীট| প্রতিবছরই এই উত্সব হয়, তবে কিনা এই প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক প্রাক্তন ছাত্রকে একসাথে জায়গা করে দেওয়া অসম্ভব, তাই কয়েকটি বছর বেছে নিয়ে সেই বছরের স্নাতকদের নিয়ে রি-ইউনিয়ন হয়| পুরনো ছাত্রছাত্রীরা সপরিবারে আসেন, খাওয়াদাওয়া করেন, ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন, স্মৃতিতাড়িত হন, তারপর ফিরে যান যে যাঁর জায়গায়| অধিকাংশই পেশাগতভাবে চূড়ান্ত সফল, অনেকেই দেশের মায়া কাটিয়েছেন বহুকাল| তবু কোনো এক আকর্ষণে তাঁরা ফিরে ফিরে আসেন কলেজবেলাটুকুকে আরেকবার ছুঁয়ে দেখতে|
২০১৭য় এসেছেন '৫৭, '৬৭, '৭৭ ও '৯২ সালে স্নাতক হয়েছিলেন যাঁরা| বেশির ভাগই পক্ককেশ, কেউ লাঠি নিয়ে হাঁটেন, অনেকেরই মধ্যদেশ রীতিমত স্ফীত, মুখে বয়সের নির্দয় আঁকিবুঁকি| কিন্তু উত্সাহের অন্ত নেই কারোরই, বয়স হার মেনেছে উদ্দীপনার কাছে| স্টেজে উঠে কেউ গাইছেন মহম্মদ রফির গান, কেউ গুনগুন করছেন গীতা দত্তের সুর, '৯২ সালে স্নাতক একজন শোনালেন অতি উত্কৃষ্ট গিটার, বর্তমান ছাত্রদের সঙ্গে প্রায় পাল্লা দিয়েই| এক এক জন স্টেজে উঠছেন, আর দর্শকাসনে সশব্দ উল্লাসে ফেটে পড়ছেন তাঁর সতীর্থরা, সেই কলেজদিনের মতই| অনুষ্ঠানশেষে খাওয়াদাওয়ার সময়েও একই ছবি| বহুদিন-পর-দেখা-হওয়া বন্ধুকে জড়িয়ে ধরছেন কোনো মধ্যবয়সী, ছাত্রজীবনের মতই উচ্ছল হয়ে উঠছেন গল্পে| এমনকি, খাওয়ার পরে বাসে চড়ে হোস্টেল ঘোরার যে ব্যবস্থা থাকে, তাকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একদল পায়ে হেঁটেই বেরিয়ে পড়লেন, হাবভাব দেখে মনে হল রাতে কিঞ্চিত বে-এক্তিয়ার হওয়ার প্ল্যানও রয়েছে বিলক্ষণ| এঁদের মধ্যে অনেকেই আজ রাত জাগবেন, যেমনটি শাসন করতেন তরুণবেলায় মধ্যরাতের রাজপথ| মাইকে গান বাজছে , ' মেরি সপনো কি রানি কব আয়েগি তু -'
এঁদের দেখে, এঁদের অফুরান এনার্জি দেখে ভালোও লাগে, আবার চিন্চিনে মনখারাপও হয়| আমারও একদিন হবে, এরকম? চোখে ছানি পড়বে, চুলে রূপোলী রেখা, হাঁটতে হবে লাঠি হাতে? সেদিন হোস্টেলের পুরনো বন্ধুকে দেখে আনন্দ হবে, এরকম? কেমন লাগবে, নিজের ছেড়ে-যাওয়া ঘর, ফেলে-আসা ক্যাম্পাসের মুখোমুখি হতে? যা যায়, তা তো আর ফেরে না, অন্ততঃ ঠিক তেমনটি করে তো নয়ই, তবু মাঝরাতে টু পয়েণ্ট টু হেঁটে যেতে কি তেমনিই লাগবে যেমন এখন লাগে? আমি পাল্টাব, ক্যাম্পাসও, আমাদের মাঝের বাঁধনটাও পাল্টে যাবে কি? তারচেয়ে না ফিরলেই, ফিরে না দেখলেই কি ভালো হবে? কম হবে, মনখারাপ?
আমার কলেজবেলার সই একবার যাদবপুরের রিইউনিয়নে পুরনো ছাত্রছাত্রীদের দেখে মনকেমন করে ওঠায় আমাকে বলেছিল, ভাবতে পারিস, কুড়ি বছর বাদে আমরা কে কোথায় ? কুড়ি বছর তো অনেক বেশি সময়, আজ দশ বছর বাদেই সে অন্য দেশে স্বামীপুত্তুর নিয়ে সংসার করছে, আমার মাথার সামনেটা ফাঁকা হয়ে এল| এককালে তার হোস্টেলের ঘরে যেতুম, এখন ফেসবুকে যোগাযোগ হয়|
জীবন যখন যাবে কুড়ি কুড়ি বছরের পার, যখন সব পাখি সব নদী ঘরে ফিরবে, তখন হয়ত সত্যিই নেড়েচেড়ে দেখতে ভালো লাগবে আমাদের যাদবপুরের সবুজ মাঠের আড্ডা, ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাস, প্রথম চাকরি পাওয়ার পর সবাই মাইল কোল্ড ড্রিংক খেতে যাওয়ার আনন্দ, খড়গপুরে রাত জেগে রিহার্সাল, স্প্রিং ফেস্টে নাচানাচি, মানঅভিমান বেড়াতে যাওয়া ভোর চারটে অবধি আড্ডা| হয়ত আমরা ছাতা লাঠি গাঁটের ব্যথা সামলে আবার ফিরব আমাদের যৌবনের উপবনে, পুরনো বন্ধুকে দেখে খুব খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরব, মাঝরাত অবধি চলবে হুল্লোড়|
সে যতই পরেরদিন এন্টাসিড খেতে হোক না কেন|

ন হন্যতে

- মমমম –
- আঃ, কি হচ্ছে কি !
- উমমম –
- ধ্যাত, কি যে করো না ! সরো, সরো বলছি!
- উমমম... হুমমম, তুমি সরে এসো -
- উফ, বয়েস বাড়ছে আর আদিখ্যেতা বাড়ছে তোমার! ছাড় বলছি!
- যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক, আমি তোমায় ছাড়ব না – হু হু –
- বুড়োবয়েসে কি মাথাটা গেছে? দরজাটা খোলা, সে আক্কেল আছে? পাশের ঘরে ওরা শুনতে পেলে?
- শোনার জন্যে কান খাড়া করে আছে যেন! রাত দুটোর আগে ঘরের আলো নেভে না, দেখোনি?
- ইশ, হি হি হি, সেদিন আলো নেভানোর পরেও তো –
- আজ ব্যাপার কি বলো দেখি? এত সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়ল দুটোতে? ঝগড়াঝাঁটি হল, নাকি?
- তোমার কি খেয়েদেয়ে কাজ নেই? এই মাঝরাত্তিরে ছেলেবউয়ের ঘরে কি হচ্ছে না জানলে ভাত হজম হচ্ছে না তোমার? ঘুমোও না বাপু|
- উফ, গিন্নী, তুমি এমন আনরোম্যান্টিক না! ওরা ঘুমোচ্ছে, আমরা আজ রাত জাগি বরং? এই রা-আ-ত তোমার আমা-আ-আর -
******************************
শোবার ঘর থেকে বেরিয়ে ডাইনিং রুমের আলোটা জ্বালে শুভজিত| একটা ভর্তি বোতল নিতে হবে, শ্রুতি আজ ঘরে জল নিয়ে যেতে ভুলে গেছে| অজান্তেই পাশের ঘরটার দিকে চোখ চলে যায় তার| পর্দাটা হাওয়ায় উড়ছে, এঘরের আলোয় দেখা যাচ্ছে দেওয়ালে টাঙানো ছবিদুটো |‘তিনটে দিন তোর বাবাকে না দেখলে আমার মনকেমন করে’, মা বলেছিল|

ডবল ফেলুদা

এ সিনেমাটার রিভিউ খেলিয়ে লেখার কোনো মানেই হয় না| জাস্ট কতটা খারাপ লেগেছে সেটুকু বললেই যথেষ্ট হবে|
১| কাহিনী – শ্রীসত্যজিত রায়| যে দুটো গল্প নিয়ে ছবি (সমাদ্দারের চাবি আর গোলকধাম রহস্য), সেগুলো কোনো অবস্থাতেই প্রথমসারির ফেলুদাকাহিনীর মধ্যে পড়ে না, না প্লটে, না গল্পের বাঁধুনিতে| তবে কিনা জটায়ু পাওয়া যাচ্ছে না, অতএব হাফ এ বেল ইজ বেটার দ্যান নোবেল এই লজিক মেনে পরিচালকমশাই এই দুটোকে বেছেছেন| যাঁরা গল্প পড়েছেন, তাঁদের ছবিটা দেখতে বসে হাই না তোলার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই| দশে সাড়ে ছয়|

২| চিত্রনাট্য – পুরোনো ‘সন্দেশ’-এ সত্যজিত লিখেছিলেন কিভাবে গল্প থেকে চিত্রনাট্য তৈরী করতে হয়| মূল বক্তব্যটা ছিল, গল্পে পাঠকের কল্পনা করে নেওয়ার জায়গা থাকে, কিন্তু সিনেমায় সবকিছুই চোখের সামনে দেখাতে হয়, ‘রাম ভালো ছেলে’ বললেই গল্পের প্রয়োজন মিটে যায়, সিনেমায় তার ভালো কাজের নমুনা দেখানোর দরকার পড়ে| সাহিত্য আর সিনেমা যে দুটি আলাদা মাধ্যম, সেটা সহজ ভাষায় বোঝানোর জন্যে এর চেয়ে ভালো লেখা কমই আছে| পরিচালক এই লেখাটা আরেকবার ঝালিয়ে নিলে ভালো করবেন, গল্প থেকে হুবহু টুকে দেওয়ার অভ্যেসটা ছাড়বেন| সোনার কেল্লা বা জয় বাবা ফেলুনাথ দেখলেও একই ফল হওয়ার কথা| দশে ছয়|

৩| পরিচালনা – সন্দীপ রায় পরিচালক হিসেবে মোটেই ফেলে দেওয়ার মত নন, ‘নিশিযাপন’, ‘যেখানে ভূতের ভয়’, ‘চার’ ইত্যাদি ছবি বানিয়ে তিনি সেটা প্রমাণ করে দিয়েছেন| কিন্তু ফেলুদাটা সত্যজিত ঢের ঢের ভালো বানাতে জানতেন, এটা এবার তাঁকে মেনে নিতেই হবে| গোয়েন্দাগল্পে ডিটেলিংয়ের এত অভাব কেন? কেন ছবির টাইটেল কার্ডে লেখা হয় 'গোলোকধাম' আর বাড়ির দরজায় দেখানো হয় 'গোলকধাম' ? 'আমার কাছে এলে কেন, ইঁদুরের ঘেঁটি ধরে নাড়লেই তো সব পেয়ে যেতে' - এটা সিধুজ্যাঠা না বললে ফেলুদা শিখবে না? দশে সাড়ে পাঁচ|

৪| অভিনয় – সব্যসাচীর ফেলু ভুঁড়ির ভারে কিঞ্চিত ভারাক্রান্ত হয়েও ধারে কাটছেন| সাহেবের পরিণত মুখে তোপসের টিনএজারসুলভ হাবভাব বিসদৃশ, এবং তিনি যদি ফেলুদা সিরিজে অভিনয় করে যেতে চান, বাংলা উচ্চারণটা ভালো না করে তাঁর উপায় নেই| ব্রাত্য বসুর মণিমোহন চলনসই, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ছোট্ট ভূমিকায় জাত চিনিয়েছেন| পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিধুজ্যাঠা বিশ্বাসযোগ্য| তবে ধৃতিমানের নীহারবাবু আর গৌরব চক্রবর্তীর রণজিত এই ছবির সবচেয়ে উজ্জ্বল দুটি চরিত্র| যদি ঠিকঠাক সিনেমা বেছে নিতে পারেন, বাংলা ছবিতে গৌরবের ভবিষ্যত যথেষ্ট ঝকঝকে না হওয়ার কোনো কারণ নেই| দশে সাড়ে সাত|

৫| সঙ্গীত – একটা গোয়েন্দাকাহিনী এরকম ন্যাড়াবোঁচা কেন? কেবল ফেলুদার সিগনেচার টিউন বাজালেই কাজ শেষ? বাকি সময়টা আবহসঙ্গীতের কোনো প্রয়োজন নেই? এমনকি বাইক চেজের সময়েও নয়? দেখতে বসে এক এক সময়ে মনে হচ্ছিল, হড়বড় করে বানানো টেলিফিল্ম দেখছি| দশে টেনেটুনে সাড়ে চার|


এ ছবি নাকি ফেলুদার সিনেমায়িত হওয়ার পঞ্চাশ বছর উদযাপন করছে, তাই ছবির শেষে আগের ফেলুছবির কুশীলবদের দিয়ে দু-চার কথা বলানো হয়েছে| পরিচালক ভেবেছিলেন পুরনো তোপসে, ক্যাপ্টেন স্পার্ক, মুকুল, এবং সেই ছেলেটি যাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ভবানন্দের দল 'মিসটেক, মিসটেক' বলে ফেরত দিয়ে গিয়েছিল, এদের দেখালে দর্শককে খানিকটা সেন্টিমেন্টাল করে দেওয়া যাবে, কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা ব্যুমেরাং হয়ে গিয়েছে, অভিনেতারা (বা প্রাক্তন অভিনেতারা) কেবল 'মানিককাকু/ মানিকজ্যেঠু' সম্পর্কেই বলে গেলেন, বর্তমান নিয়ে একটি কথাও খরচ করলেন না|
সিনেমাটা কেমন হয়েছে সে তো বুঝতেই পারছেন| যদি ভুল করেও দেখে ফেলেন, ডিটক্স করতে একবার ‘সোনার কেল্লা’ দেখে ফেলবেন, তাহলেই দোষ যাবে কেটে|

কথাবার্তা

রাতে খেতে বসে কথা হচ্ছিল৷ মামা সর্ষেবাটা কই দিয়ে গেছেন টিপিনকৌটোয় পুরে, তাই খেয়ে হাত চাটতে চাটতে ওদের রান্নার লোকের ভূয়সী প্রশংসা চলছিল অার যেহেতু নদীর এপার কহে ইত্যাদি, নিজেদের বাড়ির রান্নার মাসিকে ন ভূতো ন ভবিষ্যতি করছিলাম (অবশ্য কইমাছ দূরে থাক, ভুল করে সে অালুরদম ভালো রেঁধে ফেললেই অামরা ধন্য হয়ে যাই)৷
— অামাদের কপালটাই এমন ৷ অামার সুচিন্তিত মন্তব্য৷ অামার রান্নার দৌড় ডিমসেদ্ধ পর্যন্ত, অতএব কমেণ্ট করবার অধিকার অাছে৷

মা ব্যাপারটাকে অারেকটু ক্ল্যারিফাই করেন৷ হাজার হোক সংস্কৃতের ডাকসাইটে অধ্যাপক, ভাষার ওপর দখল অামার চেয়ে দেড় লক্ষ গুণ বেশি৷
— কপাইল্যার এমন কপাল,
গাই বিয়াইল দামড়া বাছুর, বউ বিয়াইল অাবাল৷
শেষ শব্দটি শুনে কান খাড়া হয়ে ওঠে৷ 'অা' সমেত এবং 'অা' ছাড়া, দুভাবেই শব্দটা শোনা, এবং কোনো অবস্থাতেই সেটা বিশেষ ইয়ে নয়৷ অামার ধারণা ছিল 'অা' সমেত শব্দটা নিতান্তই হাল অামলের ভাষার মাত্রা, ব্যাপারটা তাহলে তা নয়?
অগত্যা মায়ের শরণ নিই৷ অামার বাংলা শেখার শুরু এবং শেষ যিনি৷ নিতান্ত ন্যাদোশের মত মুখ করে শুধোই
— গাই বিয়োল মানে তো বুঝলাম, বাকিটার মানে কি দাঁড়াল?
অামার সীমাহীন অজ্ঞতায় মা অাহত হন ৷ তাঁর ভেতরের শিক্ষকসত্তা গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে৷
— বউ বিয়াইল অাবাল , মানে বউয়ের মেয়ে হয়েছে৷ তখন মেয়েদের খুব একটা ইয়ে করা হত না তো —
চুপ করে থাকি৷ শব্দটা তখনও গালাগালই ছিল তাহলে৷

খেলাধুলো

ইয়ে .. সবাই খেলছে তাই ...
Tattoos.......... না| ছুঁচ ফোটানোর ভয়ে তো বটেই, ট্যাটু আঁকানোর চেয়ে মোছা ঢের বেশি কঠিন, সেই কারণেও| আজ যা আমার ভালো লাগছে, পাঁচ বছর পর সেইটা ঠিক সেইভাবেই ভালো লাগবে, এরকম চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে আমার খুব একটা ভরসা নেই, তাই | কিছু জিনিস অবিশ্যি আছে যেগুলোর প্রতি ভালোলাগা চুল্লিতে ঢোকা পর্যন্ত নড়চড় হওয়ার আশংকা নেই, কিন্তু সেগুলোকে হাতেপায়েপিঠে বয়ে বেড়ানোর পক্ষপাতী নই, তাই|
Surgeries............... এই মেরেছে| না, না, না| মায়ের দুখানা হয়েছিল, কষ্ট দেখে বুঝেছি ও জিনিস না হওয়াই ভালো| তা সে যতই হাসপাতালে ভালো ভালো খেতে দিক না কেন| 
Broken a bone......... নাঃ| একবার পা মচকেছিল বটে, সুদর্শন ডাক্তার হেসে এও বলেছিলেন - তিনদিন রেস্ট - কিন্তু আমি তার পরদিনই নাচতে নাচতে পুজোর বাজার করতে চলে গেছিলাম | ফল ? ডান পা-টা একটু কমজোরি হয়েই আছে, বেশি চাপ পড়লেই ব্যথা করে|
Fell in love........... উফ্, এত হাঁড়ির খবর বলতে হলে তো বিপদ! হ্যা রে বাবা| পনেরয় একবার, পঁচিশে আর একবার| হল ? পয়ত্রিশ এখনো হয়নি, হলে কি হবে বলা যাচ্ছে না|
Had been heart broken in love....দ্যাখো বাপু, বঁটিতে মাছ কুটব আর একবারও রক্তারক্তি হবে না এরকম হয় নাকি? ও সকলেরই হয়, আমারও হয়েছে| আসল কথাটা হল, কার হাতের রক্ত কত জলদি বন্ধ হয়|
Skipped school......... পাগলা নাকি? আমি কি স্কুলে একা একা যেতুম নাকি যে স্কুল কাটব? কলেজে অবিশ্যি দুটো একটা ক্লাস মাস বাংক মেরেছি, পরে বুঝেছি আরও বেশি মারলেও রেজাল্টের বিশেষ হেরফের হত না| বরং যারা ক্লাস কেটে মাঠে আড্ডা মেরেছে, আমি তাদের হিংসে করি| আজও|
Watched someone die........না| ভাগ্যিস!
Ridden in an ambulance..... না। চাপতে চাইও না| শোয়া-বসা কোনো অবস্থাতেই নয়|
Sang karaoke............ হ্যা| বিশেষ সুবিধে হয় নি বলাই বাহুল্য|
Have a pet......... ছোটবেলায় কুকুর ঘোড়া হাতি অনেককিছু পোষার কথাই ভেবেছিলাম, গ্যারেজে হাতিটার জায়গা হবে কিনা এরকম একটা ক্যালকুলেশনও মাথায় ঘুরেছিল, কিন্তু মায়ের এক কথা - আমি তোমার যত্নই করতে পারি না, আবার আরেকটা জানোয়ারের (নোট দ্য ল্যাঙ্গুয়েজ ) যত্ন করব কি করে? মা কুকুরের কথাই ভেবেছিলেন, অফ কোর্স|
Been skiing............... হল আর কই? শুধু বন্ধুদের ছবি দেখেই দিন গেল| জঘন্য|
Been skating.................. সেও হয়নি| ইউটিউবে দেখেই শখ মেটাই|
Rode a horse - ইয়েসসস| ঝিলমিল - এ (তখনও নিক্কো পার্ক হয়নি), প্রথমবার| ঘোড়া দুলকি চাল ছেড়ে হালকা ছোটা শুরু করতেই জিন আঁকড়ে গান শুরু করেছিলাম - খরবায়ু বয় বেগে| (গান গাইলে ঘোড়া ফেলে দেবে না একথাটা কে শিখিয়েছিল মনে নেই)
দ্বিতীয়বার দার্জিলিং-এর ম্যাল-এ| এ ঘোড়া বেশ জোরেই দৌড়েছিল, জিনের ঘষা খেয়ে আমার প্রাণ যায় আর কি| সেই থেকে না, যাঁরা ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধু করেছেন তাঁদের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা| এক হাতে লাগাম, গায়ে একমণি যুদ্ধের পোশাক, হাতে আড়াইগজি তলোয়ার, আর পশ্চাদ্দেশে ক্রমাগত জিনের ঘষা খাওয়া - সবগুলো কো-অর্ডিনেট করা কি মুখের কথা?
আর হ্যা, আমি উটেও চড়েছি| পুরীতে| হাতিটা বাকি আছে|
Stayed in a hospital......... হ্যা| তবে সময়টা ভুলে যেতে চাই| পুরোপুরি|
Rode in the back of a police car..... ন্যাহ| যদিও ট্যাক্সিড্রাইভারকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে মিটার ঠিক করিয়েছি একাধিকবার|
Ever kissed in public....... লে হালুয়া! বলব কেন?
Ever got drunk...... না| না| এবং না| লুকোনো ফ্রাস্ট্রেশান বের করে দেওয়ার অন্য রাস্তা আছে নিশ্চয়|
Travelled without ticket...... একবার ভুল করে| সেবার ধরা পড়িনি| আর একবার টিকিট কেটে ব্যাগে খুঁজে পাইনি - অতএব ফাইন|
Danced all night........... আঃ, বলছি না পায়ে ব্যথা ? ঠ্যাং খুলে গেলে লাগিয়ে দেবে কেডা ?
Stopped if a cat crossed Ur path.......কয়েকবার করে দেখেছি, কপাল যে পোড়া সেই পোড়াই| আজকাল করি না| বেড়ালও রাস্তা পার হয়, আমিও হই|
Written a book............ ইচ্ছে তো করেই, শুধু কেউ আমায় সময় আর আইডিয়া দাও না গো ? ল্যাদটাও কাটিয়ে দিতে পারলে ভালো হয়|
Danced on the street......ইচ্ছে আছে একবার পাড়ার ভাসানে বেদম নাচব| কবে হবে, জানা নেই|
আর আছে, প্রশ্ন?