মরে যা, মরে যা শালি - একটা জড়ানো গলা। লাথি পড়ছে বন্ধ দরজায় । খোল রেন্ডি , দরজা খোল -
আঁ আঁ আঁ । জন্তুর মতো গোঙানি। ঘরের অন্ধকার কোণে একটা পুঁটলিপাকানো অবয়ব । দরজায় ধাক্কা পড়লেই ভয় পায় আর মা-কে ডাকে ।
আরতি চেষ্টা করেছিল । ওকে নিয়ে কাজে যাবার । হয়নি । কাজের বাড়ির সিঁড়ি ভেজানো যদি বা তারা মেনে নিয়েছিল, তাদের বাড়ির বাচ্চাকে খিমচে দেওয়াটা সহ্য করেনি । তা ছাড়া রেখে গেলে পাড়ার বাচ্চাগুলো পিছনে লাগত । কাজটা রাখা যায়নি ।
সেই থেকে নিমাইয়ের উপর নির্ভর । তার কাজ থাকে আর যায় । থাকলে, মাইনেটা প্রায় মদের দোকানেই যায় । বাড়িতে দুটো মানুষ আধপেটা খেয়ে বা না খেয়ে থাকে । নিমাই এসে খিস্তি করে দুজনকেই । মরে যা, মরে যা বাঞ্চোৎ । বারান্দা ভাসিয়ে বমি করে । পুঁটলিটাকে লাথি মারতে যায় ।
আগে ছিল না এমন। বিয়ের পরপরই আদর, সোহাগ, সশব্দ ভালোবাসাবাসি। তারপর ওই অবয়ব। আঁ আঁ আঁ । নিমাই অচেনা মানুষ হয়ে গেল ।
নিজের সন্তানের মরণকামনা করো তুমি ! থাকতে না পেরে একদিন বলেছিল আরতি ।
স-ন-তা-ন! কে আমার চোদ্দপুরুষের সন্তান রে ! খিঁচিয়ে উঠেছিল নিমাই। কোন নাঙ এসে পেট করে দিয়ে গেছে -
এক লাথিতে দরজাটা ভেঙে গেল । দুপাশ থেকে দুটো গলা । একটা ক্রুদ্ধ, একটা ভীত সন্ত্রস্ত অসহায়।
শা-লি !
আঁ আঁ আঁ ।
আরতি চোখ বন্ধ করে একটা ধাক্কা দিল । সামান্য আর্তনাদ, একটা শরীর দেওয়ালে মাথা ঠুকে মেঝেয় পড়ল ।
চোখ বন্ধ করেই দেওয়ালে মাথা ঠুকতে লাগল আরতি যতক্ষণ ওই রক্তগঙ্গা না হয় তাই.........
No comments:
Post a Comment