Wednesday, April 22, 2020

পরভৃৎ (ফেসবুক পোস্ট, বাইশে এপ্রিল দু হাজার কুড়ি)

লকডাউনের বাজারে কিছু সিনেমাটিনেমা দেখার সুযোগ হচ্ছে। জি সিনেমা, এয়ারটেল এক্সস্ট্রিম, জি ফাইভ মিলিয়ে মিশিয়ে ব্যাপারটা মন্দ দাঁড়াচ্ছে না। কয়েকটা ওয়েব অরিজিনাল দেখলাম, বলার মতো নয় কোনোটাই। ওয়েব সিরিজে 'অসুর' এর শুরুটা ভালো, মাঝপথে খানিক ছড়ানো বাদ দিলে শেষটাও। 'ডেলহি ক্রাইম' অসামান্য। রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজ আধখানা দেখে আর টানতে পারলাম না। একটা গল্পে কাঞ্চন মল্লিক অসামান্য কাজ করেছেন। এত শক্তিমান এই অভিনেতাকে টালিগঞ্জ স্রেফ কমেডিয়ান - বা কমেডিয়ানও নয়, ভাঁড় - বানিয়ে রেখে দিল, বাংলা ছবির এ অসীম দুর্ভাগ্য।ওই একই গল্পে সায়নীও খুব ভালো, পুরো সিরিজটাতে রুদ্রনীলও । তাও কেন পোষাল না কে জানে।
'পঞ্চায়েত' সবে শুরু করেছি, ফাটাফাটি। অবশ্য জিতেন্দ্র কুমার, রঘুবীর যাদব, নীনা গুপ্তা থাকলে খারাপ হবেই বা কী করে। তাছাড়া ওয়েব সিরিজ বলতেই যে লাগামছাড়া ভায়োলেন্স/অকারণ যৌনতা/অনর্গল খিস্তির স্রোত আশা করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছিলাম, সেটাও ভেঙে গেল, মন্দ কী। এই একই কারণে মেড ইন হেভেন (Made in Heaven)ও আমার খুব পছন্দের ওয়েব সিরিজ। যা ঘটে, যা ঘটতে থাকে সেগুলো বাস্তবের খুব কাছাকাছি, সেই কারণেই হয়তো অভিঘাতটা বেশি হয়।
সিনেমাও দেখা হল কম নয়। নাইভস আউট চমৎকার। প্রতি মুহূর্তে সজাগ না থাকলেই মিস। একদিন 'মেজ বউ'ও দেখেছি, সে আর কী করা যাবে। বন্ধুর নামধাম ধার করে হইচই-তে দেখলাম দ্বিতীয় পুরুষ। যতটা গাল খাচ্ছে ছবিটা ততটাও খারাপ নয়, তবে বাইশে শ্রাবণ -এর থেকে এ ছবি কয়েক আলোকবর্ষ পিছিয়ে। প্লটে এবং অভিনয়ে। পরম-অনির্বাণ যত ভালো অভিনেতাই হোন, প্রসেনজিতের ষ্টার পাওয়ার তাঁদের নেই। পিরিয়ড। বিবাহ অভিযান-এর ভাঁড়ামো অত্যন্ত বিরক্তিকর লেগেছে।
আর্টিকল ফিফটিন ভালো, তবে ওভাররেটেড। আয়ুষ্মানের চরিত্রটা বড় বেশি সাদা, খানিকটা ধূসর রেখা থাকলে ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং হত । এক লড়কি কো দেখা তো এয়সা লগা রাজকুমার রাও, অনিল কাপুর আর জুহি চাওলার জন্য দেখা যায় বটে, কিন্তু মাঝে সোনম নামক এক - ইয়ে ঢুকে পড়ে সব গড়বড় করে দেন। বরেলি কি বরফি-র আয়ুষ্মান ভালো, রাজকুমার আরও ভালো, কিন্তু ছোট শহরের মেয়ে হিসেবে কৃতি শ্যানন বড় বেশি ঝকঝকে ও বেমানান।
বালা আয়ুষ্মানের জন্যই দেখা উচিত, বলাই বাহুল্য, ইয়ামি গৌতম উপরি পাওনা। ভূমি পেডনেকরকে কেন কালিঝুলি মাখিয়ে ভূতের মতো সাজাতে হল কে জানে। বালমুকুন্দের টাক ব্যালান্স করতে লতিকাকে কালো হতে হবে, এ কেমন দাবি? শুভ মঙ্গল জ্যাদা সাবধান-এ গজরাজ রাও-নীনা গুপ্তা নিখুঁত, জিতেন্দ্র কুমার দিব্যি, ছকভাঙা রোলে আয়ুষ্মান তো ভালোই| দুই প্রধান পুরুষ চরিত্রের লিপলক, তাও দু বার, দেখানোর জন্য পরিচালককে এবং অভিনেতা দুজনকে হাততালি, কিন্তু এ ছবির চেয়ে শুভ মঙ্গল সাবধান বেশি ভালো সিনেমা।
এই অবধি পড়ে সবাই বুঝে গেছেন আমি আয়ুষ্মানকে দেখে ঘাড়মোড় ঘুরে পড়েছি, শিগগির ওঠার আশা কম। দম লাগা কে হাইসা দেখার আগে ভাবলাম একবার ভিকি ডোনারটা ঝালিয়ে নি'।
দেখতে দেখতে কিছুদিন আগে দেখা আরেকটা ছবির কথা মনে পড়ে গেল। গুড নিউজ। এমনিতে ভিকি…....র সঙ্গে এটার তুলনা করাই চলে না। ভিকি ... ... এ দশকের সেরা সিনেমার যে কোনো লিস্টে হেসেখেলে জায়গা করে নেবে ব্যতিক্রমী বিষয়, দুর্দান্ত পরিচালনা ও অসাধারণ অভিনয়ের গুণে, অন্যটা সামাজিক সমস্যার কথা বলবে না কমেডি বানাবে ভাবতে ভাবতে সবটাকেই ঘন্ট পাকিয়ে ফেলেছে। শুরুটায় কিছুটা সাড়া জাগালেও শেষে সেই ভ্যাদভ্যাদে বলিউড। এদিকে আয়ুষ্মান জ্বলজ্বল করছেন, অন্নু কাপুর অভাবনীয়, ওদিকে অক্ষয়কুমার-করিনা কাপুর মিলেও ব্যাপার সামলাতে পারেননি, ব্যস্ত, ক্রমশঃ-বয়েস-বেড়ে-চলা পেশাদারের ভূমিকায় দুজনকেই খুব মানিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও। কিয়ারা আডবাণীর কথা না বলাই ভালো, দিলজিৎ প্রথম দিকে কিছুটা চেষ্টা করে শেষে জঘন্য স্ক্রিপ্ট ও গল্পের কাছে হার মেনেছেন।
তবু দুটো সিনেমাতেই একটা মিল আছে। দুটোই সন্তানহীনতার সমস্যা নিয়ে কথা বলে, নিজের নিজের মতো করে। এদিকে ডক্টর বাটরা ভিকির শুক্রাণু ব্যবহার করে সন্তানহীন দম্পতিদের মুখে হাসি ফোটান, ওদিকে বরুণ আর দীপ্তি ডক্টর যোশীর কাছে দৌড়োয় 'ভালো খবর'এর আশায় ( যে ভালো খবরের জন্য কাপলদের-জীবন-অতিষ্ঠ-করে-দেওয়া সমাজ বিবাহিত দম্পতিকে জ্বালিয়ে মারতে থাকে ফুলশয্যার প্রায় পরদিন থেকেই )। অসীমার সন্তানধারণের অক্ষমতার কারণে তার বিয়েটাই ভেঙে যেতে বসে, আর দীপ্তির জোরাজুরিতে বরুণ বাধ্য হয় ডাক্তারের-প্রেসক্রিপশন-মানা বাঁধাধরা ইন্টারকোর্সে।
ডক্টর যোশী যখন দীপ্তিকে বোঝান আইভিএফ-এর প্রক্রিয়া, ঝুঁকি, খরচাপাতি সম্পর্কে, দীপ্তি আচমকা প্রশ্ন করে বসে, এর চেয়ে কি দত্তক নেওয়াই সহজ, নির্ঝঞ্ঝাট হত না? ডাক্তার ফিরে প্রশ্ন করেন, তাহলে সে কাজটা দীপ্তিরাই কেন করেনি আরও আগে? নিজের জিন, নিজের রক্তধারা নিয়ে আপস করবে না বলেই না?
ভিকি অসীমাকে এডপ্ট করার কথা বললে ভিকির মা ঝাঁপিয়ে পড়েন - কার না কার বাচ্চা .......

কোন আবাগের বেটা ভূত এসে আমার সম্পত্তি খাবে .........